Loading...

নতুন ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক দেয়াল ও মুসলমানদের পদ্ধতিগত উচ্ছেদ

নতুন ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক দেয়াল ও মুসলমানদের পদ্ধতিগত উচ্ছেদ
Advertisement
Advertisement — Place AdSense Code Here
Table of Contents
    ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভাষানীতি, সংস্কৃতঘেঁষা বাংলা, মুন্সী মেহেরুল্লাহ, মোস্তফা চরিত এবং মুসলিম সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে তুলে ধরা ঐতিহাসিক ইলাস্ট্রেশন।

    ১৮০১ সালের ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভাষানীতি, বাংলার মুসলিম সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক সংকট এবং মুন্সী মেহেরুল্লাহর সাহিত্যিক প্রতিরোধের প্রতীকী চিত্র

    ৪:৫

    Previous Part.......

    ১৮০১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভাষাগত ল্যাবরেটরিতে যে কৃত্রিম, সংস্কৃতঘেঁষা ‘ভদ্রলোকি বাংলা’ বা সাধু ভাষার জন্ম দেওয়া হয়েছিল, তা কেবল সাহিত্যের ক্যানভাস দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং তা ছিল বাংলার সংখ্যাগুরু মুসলিম সমাজকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা এবং সরকারি কর্মসংস্থান থেকে পদ্ধতিগতভাবে উচ্ছেদ করার এক নিষ্ঠুর ও প্রাতিষ্ঠানিক দেয়াল (আলী, মোহাম্মদ মজহার। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা সাহিত্য, বাংলা একাডেমী, পৃষ্ঠা ৭৪)। ১৭৫৭ সালের পলাশী বিপর্যয়ের পর লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে মুসলিমরা ইতিমধ্যেই তাদের আদিম জমিদারি ও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হারিয়ে চরম দেউলিয়াগ্রস্ততার মুখে পড়েছিল (মর্তুজা, গোলাম। ইতিহাসের ইতিকথা, পৃষ্ঠা ১১২)। এই অর্থনৈতিক অন্ধকারের ওপর দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত মরণকামড়টি বসানো হয় এই নতুন আইনি ও ভাষাগত কার্টেল তৈরির মাধ্যমে।

    কোম্পানি আমলের শিক্ষা ও চাকরি নীতির মূল শর্তই ছিল—যাঁরা ফোর্ট উইলিয়ামের তৈরি করা এই কৃত্রিম ও সংস্কৃতায়িত ভাষা এবং ইংরেজি রপ্ত করতে পারবেন, কেবল তাঁরাই রাষ্ট্রের কেরানি, আমলা, উকিল এবং বিচারক পদের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এর ফলে, রাতারাতি এক নজিরবিহীন প্রাতিষ্ঠানিক জেনোসাইড বা নিধনযজ্ঞের শিকার হন বাংলার মুসলিমরা। কারণ, যে ফারসি ও চলিত গণমুখী বাংলা ভাষার ওপর ভিত্তি করে মুসলমানেরা এতকাল রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছিলেন, তা এক লহমায় ‘বেআইনি’ ও ‘অশুদ্ধ’ তকমা পেয়ে যায়। উচ্চবর্ণের হিন্দু পণ্ডিতেরা কোম্পানি আমলের এই ভাষাগত আইনকে নিজেদের একচেটিয়া অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমস্ত সরকারি দপ্তরের প্রধান আসনগুলো কুক্ষিগত করে ফেলেন। পক্ষান্তরে, এই মাটির আসল সন্তান ও মুসলমানেরা তাঁদের নিজস্ব জন্মভূমিতেই রাতারাতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিরক্ষর এবং রাষ্ট্রীয় কাজের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়েন, যা তাঁদের চরম সামাজিক ও রাজনৈতিক পতনের পথ সুগম করেছিল (আহমদ, আবুল মনসুর। বাংলাদেশের কালচার, আহমদ পাবলিশিং হাউস, পৃষ্ঠা ৫২)।

    মোস্তফা চরিত ও মুন্সী মেহেরুল্লাহর সাহিত্যিক প্রতিরোধ

    কলকাতার বাবু সমাজ যখন নিজেদের তৈরি করা এই নান্দনিক ফ্যাসিবাদের (Aesthetic Fascism) দাপটে গ্রামীণ বাংলার লোকজ পুঁথি এবং মুসলমানদের মুখের চলিত ভাষাকে ‘ক্ষেত ও অপবিত্র’ বলে অবিরত ধিক্কার দিচ্ছিল, ঠিক তখনই এই সুপরিকল্পিত সাংস্কৃতিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে বাংলার মাটি থেকে এক মহিমান্বিত ও কিংবদন্তিতুল্য সাহিত্যিক প্রতিরোধের জন্ম হয়। এই গণপ্রতিরোধের প্রধানতম সেনাপতি ছিলেন বিংশ শতকের শুরুর ভাগের অন্যতম সমাজ-সংস্কারক, বাগ্মী ও চিন্তাবিদ মুন্সী মেহেরুল্লাহ এবং তাঁর সুযোগ্য অনুসারী কবি ও পণ্ডিতেরা। তৎকালীন মুসলিম উচ্চশ্রেণী যখন নিজেদের আভিজাত্য রক্ষায় সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে উর্দুর পেছনে ছুটছিল, তখন বাংলার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে আঁকড়ে ধরে উদীয়মান মুসলিম মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীটিকে সাথে নিয়েই মুন্সী মেহেরুল্লাহ তাঁর আন্দোলনের মূল জমিন তৈরি করেন (দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রবন্ধ: "মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ", নাসের হেলাল সম্পাদিত মুন্সী মেহেরুল্লাহ : জীবন ও কর্ম, পৃষ্ঠা ৩০-৩১)। তিনি খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, কলকাতার বাবুরা কেবল মুসলমানদের ধর্মকে আঘাত করছে তা নয়; বরং তারা সাহিত্যের মাধ্যমে মুসলমানদের আত্মপরিচয়ের শেকড়টিকেই কেটে ফেলতে চাইছে।

    এই সুপরিকল্পিত ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পেছনে ছিল এক দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পটভূমি। ১৭৫৭ সালে পলাশীর বিপর্যয়ের পর লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (১৭৯৩) এবং মুসলমানদের ঐতিহ্যগত ওয়াকফ ও জায়গির বাতিলের ফলে মুসলিম সামাজিক, অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে। এর পরপরই ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি প্রাতিষ্ঠানিক নীলনকশা তৈরি করা হয়, যার মূল নির্দেশই ছিল পাঠ্যপুস্তক থেকে আরবি, ফারসি ও তুর্কি শব্দাবলী সম্পূর্ণ বর্জন করে এক প্রকার কৃত্রিম ও সংস্কৃতঘেঁষা ভাষা চাপিয়ে দেওয়া (দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রবন্ধ: "মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ", নাসের হেলাল সম্পাদিত মুন্সী মেহেরুল্লাহ : জীবন ও কর্ম, পৃষ্ঠা ২৯)। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের তৈরি করা এই ভাষা-বিমুখতা ও কৃত্রিম আভিজাত্যের বিপরীতে ১৮৬৩ সালে নবাব আবদুল লতীফ 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গীয় মুসলিম সমাজে এক নতুন রেনেসাঁর সূত্রপাত করেছিলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহ সেই প্রাতিষ্ঠানিক চেতনা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের ধারা থেকেই উঠে এসেছিলেন (দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রবন্ধ: "মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ", নাসের হেলাল সম্পাদিত মুন্সী মেহেরুল্লাহ : জীবন ও কর্ম, পৃষ্ঠা ৩১)।

    মুন্সী মেহেরুল্লাহ এবং সমসাময়িক মুসলিম লেখকেরা কলকাতার সেই সংস্কৃতঘেঁষা ভাষার আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে এক নতুন ধারার গণমুখী সাহিত্যের জোয়ার বইয়ে দেন। তাঁরা সাধারণ মানুষের মুখের হাজার বছরের চেনা আরবি, ফারসি এবং চলিত লোকজ শব্দগুলোকে পুনরায় সাহিত্যের মূলধারায় ফিরিয়ে এনে অসাধারণ সব তাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেন। দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক পার্থক্য দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, পঞ্চদশ শতকের ইউরোপীয় রেনেসাঁ (পেত্রার্ক বা ফ্রান্সিস বেকনের ধারা) যেখানে শাশ্বত ধর্মকে সম্পূর্ণ বিসর্জন দিয়ে কেবল ধর্মনিরপেক্ষ মুক্তবুদ্ধির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, মেহেরুল্লাহ ও তাঁর সমসাময়িকদের এই ধারাটি ছিল তার ঠিক বিপরীত (দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রবন্ধ: "মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ", নাসের হেলাল সম্পাদিত মুন্সী মেহেরুল্লাহ : জীবন ও কর্ম, পৃষ্ঠা ৩১)। তাঁরা ইউরোপের অন্ধ অনুকরণে ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেননি; বরং ইসলামের শ্বাশ্বত মূলনীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে অক্ষুণ্ণ রেখেই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্যের এক সমন্বিত প্রতি-আক্রমণ শানিত করেছিলেন (দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, প্রবন্ধ: "মুন্সী মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ", নাসের হেলাল সম্পাদিত মুন্সী মেহেরুল্লাহ : জীবন ও কর্ম, পৃষ্ঠা ৩১)।

    এই অনন্য ধারারই এক অমূল্য, বাস্তবমুখী এবং কালজয়ী ফসল ছিল পণ্ডিত ও সাহিত্যিকদের দ্বারা রচিত প্রথম প্রামাণ্য বাংলা জীবনীগ্রন্থ ‘মোস্তফা চরিত’। এই গ্রন্থগুলো রচনার মূল উদ্দেশ্যই ছিল—বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়দের তৈরি করা সেই কুৎসিত মুসলিম-বিদ্বেষী প্রোপাগান্ডাকে তথ্য ও যুক্তির আলোয় চূর্ণ করা এবং সাধারণ মুসলমানদের মনে তাঁদের হারিয়ে যাওয়া অতীত ও আত্মমর্যাদার সুর পুনরায় জিন্দা করা।

    মেহেরুল্লাহর এই সামগ্রিক সাহিত্যিক আন্দোলন কলকাতার একচেটিয়া আভিজাত্যবাদের অহংকারকে গ্রামীণ বাংলায় চরমভাবে পরাস্ত করেছিল। তিনি কেবল টেবিলে বসে সাহিত্যচর্চা করেননি, বরং গ্রামে গ্রামে গিয়ে ‘বাহাস’ বা শাস্ত্রীয় বিতর্কের আয়োজন করে ছদ্ম-সেক্যুলার ও খ্রিস্টান মিশনারিদের সুপরিকল্পিত ধর্মান্তরকরণের চক্রান্ত রুখে দিয়েছিলেন। তিনি প্রামাণ্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে—এই বাংলার বুক থেকে মুসলমানদের ঐতিহ্যকে মুছে ফেলার যে প্রাতিষ্ঠানিক নীলনকশা ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ তৈরি করেছিল, তা এই মাটির আসল সন্তানদের চেতনার কাছে কোনোদিনই জয়ী হতে পারবে না (আহমদ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, বাংলা সাহিত্যের কথা (২য় খণ্ড: মুসলিম যুগ), রেনেসাঁস প্রিন্টার্স, পৃষ্ঠা ৩৪)।

    চতুর্থ অধ্যায়ের সামগ্রিক ও তাত্ত্বিক উপসংহার

    চতুর্থ অধ্যায়ের প্রতিটি রোমহর্ষক রাজনৈতিক, ভাষাতাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে নিম্নলিখিত ধ্রুব এবং অকাট্য ঐতিহাসিক সত্যসমূহ আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়:

    ১. পলাশী-উত্তর অর্থনৈতিক জেনোসাইড: ১৭৫৭ সালের রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ছিল মূলত বাংলার মুসলিম ও আদি ভূমিপুত্রদের জমি ও সম্পদ কেড়ে নিয়ে তা কলকাতার নব্য-হিন্দু মুৎসুদ্দিদের হাতে তুলে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক চক্রান্ত (মর্তুজা, গোলাম। ইতিহাসের ইতিকথা, পৃষ্ঠা ১১২)।

    ২. ফোর্ট উইলিয়ামের ভাষাগত জালিয়াতি: ১৮০১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতেরা সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত হাজার হাজার জীবন্ত আরবি-ফারসি শব্দ জোরপূর্বক ছেঁটে ফেলে এক কৃত্রিম, সংস্কৃতঘেঁষা ‘ভদ্রলোকি বাংলা’ তৈরি করে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদমন (আলী, মোহাম্মদ মজহার। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ ও বাংলা সাহিত্য, পৃষ্ঠা ৭৪)।

    ৩. বেঙ্গল রেনেসাঁসের ছদ্ম-সেক্যুলার রূপ: উনিশ শতকের কলকাতা-কেন্দ্রিক নবজাগরণ কোনো গণমুখী আন্দোলন ছিল না; বরং তা ছিল বঙ্কিমচন্দ্রদের মতন উগ্র সাহিত্যিকদের হাত ধরে মুসলমানদের ‘বিজাতীয় ও ম্লেচ্ছ’ প্রমাণ করার এক সুগভীর কালচারাল ফ্যাসিবাদের কারখানা (Sarkar, Sumit. The Swadeshi Movement in Bengal, pp. 405-412)।

    ৪. ডিএনএ ও আদমশুমারির অকাট্য প্রমাণ: ১৮৭২ সালের প্রথম ব্রিটিশ আদমশুমারি (এইচ. বেভারলির রিপোর্ট) এবং আধুনিক পপুলেশন জেনেটিক্স (Basu ও Majumder-এর গবেষণা) অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছে যে—বিশ্বাস বদলালেও ধমনীর রক্ত বদলায়নি। আর্য ও সেনরা নিজেরা বহিরাগত হলেও, এই শোষিত মুসলিমরাই হলো এই মাটির আসল অস্ট্রিক-দ্রাবিড় ভূমিপুত্রদের সরাসরি রক্তজ উত্তরাধিকারী এবং এই ভূমির প্রাচীনতম দাবিদার।

    এই অধ্যায়ের ঐতিহাসিক দলিলসমূহ এ কথাই সাক্ষ্য দেয় যে, ব্রিটিশ-উচ্চবর্ণ হিন্দু আঁতাত বাংলার সংখ্যাগুরু মুসলিম সমাজকে তাদের ভাষা, ভূমি এবং সংস্কৃতির অধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করার সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন সম্পন্ন করেছিল। কিন্তু এই তীব্র অবদমন ও অবরুদ্ধতার অন্ধকার দেয়ালটি বেশিদিন টিকতে পারেনি। বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই ভূখণ্ডের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মানচিত্র পুনরায় ওলটপালট হয়ে যায়। উনিশ শতকে কলকাতার বাবুরা যে ভাষাকে মুসলমানদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজনীতির খাসমহল বানাতে চেয়েছিল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে এই মাটির মুসলিম সন্তানরাই রাজপথে নিজেদের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে সেই ভাষার প্রকৃত দেউটি ও মালিকানা পুনরুদ্ধার করে।

    Sazzad Chowdhury

    Sazzad Chowdhury

    Founder & Editor, House Of Wisdom. An independent Bengali knowledge publication exploring history, philosophy, Islamic intellectual tradition, literature, culture and civilization through references, historical sources and critical analysis.

    Author Profile

    Post a Comment