Loading...

পবিত্র কোরআন পন্থীরাও এক নয় কেনো?

পবিত্র কোরআন পন্থীরাও এক নয় কেনো?
Advertisement
Advertisement — Place AdSense Code Here
Table of Contents
    quran followers differences islamic sects analysis shia sunni mutazila wahhabi bayt al hikmah concept seosazzadchy

    পূর্বের অংশের পর থেকে আলোচনাটি অব্যাহত…

    আওহাম রুমে ঢুকেই ব্যস্তভাবে মুশিরকে বললো, আজ ইহতিজাজ ভাইয়ের কাছে যাবো। তুই যাবি আমার সাথে?
    : ওকে, যাবো। কিন্তু কেনো?
    : অন্য আরেকটি প্রশ্ন নিয়ে।
    : ওকে। তবে উনি খুব ব্যস্ত মানুষ। কল দিয়ে জেনে নে, কখন সময় দিতে পারবেন
    মুশিরের কথা শুনে আওহাম অবাক হয়ে বললো, ইসলামের নবী কি নিজের সুবিধামতো সময় করে দ্বীনের দাওয়াত দিতেন? আর আমাদের পূর্বসূরিরা কি সময় দেখে ইলম অন্বেষণ করতেন?
    আওহামের এমন প্রশ্নে মুশির 'থ' বনে গেলো। কোনো উত্তর খুঁজে না পেয়ে, নিজের অজান্তেই আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, চল! আমি যেতে প্রস্তুত।
    মুশির এবং আওহামকে দূর থেকে আসতে দেখে ইহতিজাজ এগিয়ে গেলো। উভয়কে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে, সালাম বিনিময় এবং আলিঙ্গন করলো।
    মুশির বললো, ইহতিজাজ ভাই। আজ আসার সময় আওহাম কী বলেছে শুনলে আপনি আশ্চর্য না হয়ে পারবেন না।
    : কী সেটা?
    : মুশির আসার পূর্বের আনুপূর্বিক সবকিছু বললো।
    ইহতিজাজ এমন প্রজ্ঞাপূর্ণ কথা আওহামের মুখে শুনে খুশিতে তাকে আরেকবার জড়িয়ে ধরে সাধুবাদ জানালো।
    ইহতিজাজ বললো, তো আজ আপনার প্রশ্ন কী?
    : আজকের প্রশ্ন হলো ভাইয়া, "আল্লাহর কালাম কোরআন এক। তাহলে কোরাআন পন্থীদের মধ্যে এত বৈষম্য কেনো? শিয়া-সুন্নি, মুতাজিলা, ওহাবী, কাদিয়ানী, খারিজী ইত্যাদি সম্প্রদায়ের মত এক নয়। আবার একই সুন্নি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হানাফী, শাফেয়ী' ইত্যাদি চার মাযহাব কেনো?"
    দেখুন দাদা, আরজ আলী সাহেব কুরআনপন্থী কারা -সেটাই চিনতে ভুল করে বসেছেন। শুধু মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই কুরআনপন্থী হওয়া যায় না। কোরআনপন্থী বলতে, ইসলামের অনুসারীদের বুঝায়। তাই তো?
    : জি হ্যাঁ
    কেউ মুসলমানের ঘরে জন্ম নিলেই ইসলামের অনুসারী বলে গণ্য হয়ে যায় না। বরং ইসলাম যেসব মানতে বলেছে, সেসব মানলে পরে সে কুরআনপন্থো সাব্যস্ত হয়। বিষয়টি বুঝার জন্য আপনাকে সহজ একটি উদাহরণ দেই। এই যে আমাদের বাংলাদেশে কিছু নাস্তিক রয়েছে। তাদের অনেকেই কিন্তু মুসলিম মা-বাবার কুলে জন্ম নিয়েছে। যেমন, আরজ আলী সাহেব, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ, আসিফ মহিউদ্দীন। এরা মুসলমানের সন্তান কিনা?
    : জি অবশ্যই মুসলমানের সন্তান।
    কিন্তু পরে তো নাস্তিক হয়ে গেছে। এখন কি এ কথা বলা যাবে যে, কোরআনপন্থীদের একদল নাস্তিক? কখনো না। কারণ, এরা কুরআনের কথা না মানায় কুরআনপন্থীদের ঘরে জন্ম নিয়েও কুরআনপন্থী থাকতে পারেনি।
    এবার আমরা দেখবো, আরজ আলী সাহেব কোরআনপন্থী বলে যাদের কথা বলেছেন, এরা কি আসলেই কোরআনপন্থী? নাকি তিনি কুরআনপন্থী বলে মিথ্যারোপ করেছেন?


    শিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা

    প্রথমেই দেখি আমরা, শিয়ারা আসলে কী?
    আপনি কি জানেন শিয়াদের প্রধান কে?
    : জি না।
    শিয়াদের প্রধান হলো ইয়াহুদী আলেম "আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা"। যে নামেমাত্র মুসলিম হয়ে মুনাফিকদের কাতারে নাম লেখায়।
    কোরআন-পন্থীদের মূলমন্ত্র অবশ্যই জানেন। এক আল্লা'য় বিশ্বাসী হওয়া। অথচ এরা হযরত আলী রাযি.'র মর্যাদা বাড়ানোর নামে মুসলমানকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে, তাঁকে খোদা পর্যন্ত বলে বসেছে।
    বলুন তো, এরা কি আর মুসলিম থাকলো? যারা মুসলিমই না, তারা কুরআনপন্থী দল সাব্যস্ত হবে কিভাবে?

    তাদের আরো দাবি হলো, আল্লাহ তাআ'লা জিব্রিল আ.কে দিয়ে ওহী আলী রাযি.-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু জিব্রিল ভুলবশত মুহাম্মাদ সা.-এর কাছে চলে যান। মাআ'যাল্লাহ!
    অথচ আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে ঘোষণা করে দিয়েছেন, "মুহাম্মাদ সা.ই হলেন সর্বশেষ নবী"। সূরা আহযাব -আয়াত 227


    যিনি নবী তার কাছেই তো জিব্রিল ওহী নিয়ে আসবেন। কিন্তু শিয়ারা তাঁকে সর্বশেষ নবী তো দূরের কথা, নবী মানতেই নারাজ। যারা সুস্পষ্টভাবে কুরআনের বিরোধিতা করে, আরজ আলী সাহেব তাদেরকেও কুরআনপন্থী ভেবে বসলেন! এভাবে ইসলামের মৌলিক অনেক বিষয় শিয়ারা মানে না। তাদের ভুলভ্রান্তিগুলো জানার জন্য বাংলায় লিখা "শিয়ারা কাফের কেনো" এবং "ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ" বই দু'টি আপনি অধ্যয়ন করতে পারেন। ইউসুফ লুধিয়ানবি রাহিমাহুল্লাহ-এর "ইখতিলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকিম" কিতাবটি পাঠ করলে এদের ভুলভ্রান্তিগুলো সবিস্তারে চোখের সামনে চলে আসে। যাইহোক, শিয়ারা সত্যিকার অর্থে কুরআন পন্থী কোনো দল নয়।
    দ্বিতীয়ত বলেছেন, "সুন্নি" নামক একটি দলের কথা। তাদের আলোচনায় পরে আসছি। অন্যগুলো আগে করে নিই। ঠিক আছে, দাদা?
    : ওকে, ঠিক আছে।


    মুতাজিলা মতবাদ: একটি বিচ্ছিন্ন চিন্তা

    প্রশ্নের মধ্যে এরপরে রয়েছে "মুতাজিলাদের" বিষয়টি। ইতিহাসের মধ্যে মুতাজিলাদের উদ্ভাবক হিসেবে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে, ওয়াসিল ইবনে আতা (80-131 হিজরী)-এর নাম। তিনি একদিন হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ (মৃত্যু 110 হিজরী)-এর নিকট কথা প্রসঙ্গে বললেন, কবিরা গুনাহ কারী ব্যক্তি মুমিনও নয় আবার কাফিরও নয়। বরং সে ঈমান এবং কুফুরের মধ্যখানে থাকে। এ কথা বলে তিনি হাসান বসরী রাহিমাহুল্লাহ-এর মাহফিল থেকে উঠে গিয়ে, পৃথক শিক্ষাশিবির চালু করেন। তখন হাসান বসরি বললেন, "ই'তাযালা আ'ন্না ওয়াসিলু" অর্থাৎ ওয়াসিল আমাদের (কুরআনের প্রকৃত অনুসারীদের) থেকে পৃথক হয়ে গেছে। বলা হয় তখন থেকে তাদের নাম "মুতাজিলা" হয়ে যায়।
    এছাড়াও তাদের "মুতাজিলা" নামকরণের আরো অনেক রহস্য বলা হয়ে থাকে। মুতাজিলারা কিভাবে কোরআনের প্রকৃত অনুসারী নয়, আমরা সেটা একটু দেখে নিই। কুরআনুল কারীম এবং আহাদীসে নববীতে কোথাও এটা পাওয়া যায় না যে, কোনো ব্যক্তি কবিরা গুনাহ করলে ঈমান থেকে বের হয়ে, ঈমান এবং কুফুরের মধ্যবর্তী স্থানে উপনীত হবে। বরং আমরা কুরআনুল কারীমে এবং আহাদীসে নববীতে দেখতে পাই, একজন গুনাহগার ঈমানদারকেও আল্লাহ তাআলা "মুমিন" বলে সম্বোধন করেছেন। কুরআনে এর ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে। যেমন, সূরা হুজরাতের 9 নং আয়াত,সূরা তাহরীমের 8 নং আয়াত। এভাবে আরও বিভিন্ন জায়গায় গুনাহগার ঈমানদারকেও আল্লাহ "মুমিন" বলেছেন। তারপর হাদিসের মধ্যেও আল্লা',র রাসূল গুনাহগার মুমিনও জান্নাতে যাবে বলে সুসংবাদ দিয়ে গেছেন। তারমানে বুঝা গেলো, তারা ঈমান থেকে বের হয়ে যায় না। বের হয়ে গেলে আর কখনো জান্নাতে যেতে পারতো না। তবে হ্যাঁ, কবিরা গুনাহ করে কেউ তাওবা ছাড়া মারা গেলে, জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। অতঃপর সে ঈমান থাকার কারণে জান্নাতে চলে আসবে।
    মুতাজিলারা এটা মানে না। তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি মুতাজিলাদের বিশ্বাস এবং মতবাদ কুরআন পরিপন্থী।


    ওহাবী: বাস্তবতা ও প্রোপাগাণ্ডা

    এরপর তিনি বলেছেন, "ওহাবী" নিয়ে। আসুন আমরা দেখি, ওহাবী কারা? "ওহাবী" মূলত কোনো দলের নাম ছিলো না। 1703 খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব রাহি.-এর একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এনামের উদ্ভব হয় (আপনাকে জানিয়ে রাখি যে, আন্দোলনটির নেতা শায়খ মুহাম্মাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর পিতা শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব রাহি.-এর দিকে সম্বন্ধ করে এ আন্দোলনকে "ওহাবী আন্দোলন" এবং আন্দোলনে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদেরকে "ওহাবী" বলা হয়। অথচ ওই আন্দোলনের নেতা "শায়খ আব্দুল ওহহাব" নন। বরং তাঁর সুপুত্র শায়খ মোহাম্মদ রাহি. হলেন -সেই আন্দোলনের নেতৃত্বদাতা। সুতরাং ওই দলের নাম যদি দিতেই হয়, তাহলে বলতে হবে "মোহাম্মদী আন্দোলন" ওহাবী আন্দোলন নয়)। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব মূলত হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন।
    তাঁর সংগ্রামের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো বিদআত ও কুসংস্কার থেকে দ্বীনে ইসলামকে রক্ষা করা। তাই তিনি এ দু'টির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তবে হ্যাঁ তাঁর মতাদর্শে অনেকটা বাড়াবাড়ি ছিল। যা একান্ত তাঁর নিজের সৃষ্টি। কুরআন-হাদিস থেকে নয়। সুতরাং আমরা সেগুলোকে স্বাগতম জানাবো না।
    কিন্তু ভারত উপমহাদেশে "ওহাবি" বলতে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহহাব রাহি.-এর আন্দোলনকারীদের বুঝায় না। এখানে "ওহাবী" বলতে কাদের বোঝায় -তাদের আলোচনায় যাওয়ার পূর্বে একটা কথা আমাদের স্মরণে রাখা চাই। আপনি তো জানেনই দাদা, আমাদের এ উপমহাদেশে ইংরেজরা প্রায় 200 বছর রাজত্ব করেছে।
    : হ্যাঁ, ভাইয়া। সেটা জানি। ইতিহাসের বইয়ে এসব আমরা পড়েছি।
    : তাহলে তো অনেক ভালো। আমার পরের কথাগুলো আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। যখন ইংরেজরা আমাদের উপমহাদেশে অক্টোপাশের মত জেঁকে বসেছিলো, তখন ভারতের "রায়বেরেলি" জেলার অধিবাসী "সাইয়েদ আহমদ শহীদ" রাহি. (১৭৮৬-১৮৩১ খ্রি.) এ দেশের মানুষের স্বাধীনতা রক্ষার তাগিদে, ইংরেজ বিরোধী যে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করেছিলেন -সে সংস্কার আন্দোলনকে হেয় প্রতিপন্ন করার মানসে, ইংরেজ সরকার আরবের "ওহাবী আন্দোলন"-এর সাথে তুলনা করে এটাকেও "ওহাবী আন্দোলন" বলে প্রোপাগাণ্ডা চালায়। অথচ দু'টি আন্দোলনের একটির অপরটির সাথে আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই। পরবর্তীতে এইসুরে সুর মিলিয়ে যেকোনো বিদআত ও কুসংস্কার বিরোধী উলামায়ে কেরামকে "ওহাবী" বলার একটা অপপ্রয়াস এই উপমহাদেশে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে।
    দেখুন দাদা, যে ইংরেজরা আমাদেরকে গোলাম বানিয়ে রাখতে চেয়েছে; সেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা কি কোনো খারাপ কাজ? স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রতী হওয়া কি অন্যায়?
    : অবশ্যই না।
    তারপর আপনি বিদআত বা কুসংস্কারের দিকে তাকান। বিদআত হল ঐ সমস্ত কাজ যেগুলোর কোন ভিত্তি ইসলামী শরীয়তের মধ্যে নেই। অথচ লোকেরা সে গুলোকে সওয়াব বা নেকীর কাজ ভেবে করে থাকে।
    আপনি বলুন দাদা, এসব কাজ কি সমাজের জন্য ক্ষতিকর নয়? এগুলো কি ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে না? মানুষের সামনে সঠিক ইসলামকে প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে এগুলো কি বিপুল বাধা হয়ে দাঁড়াবে না? এসব কারণেই অনেকে সঠিক ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারছে না। ফলে ইসলামকেও কুসংস্কারপূর্ণ ধর্ম মনে করে "এথিজম"-এর পথে পা বাড়াচ্ছে। যেমন, আরজ আলি সাহেব পা বাড়িয়েছিলেন। ইসলামকেও তারা কুসংস্কারের ধর্ম বলে গালি দিচ্ছে। অথচ এর পিছনে কুসংস্কার পালনকারী এ বেদআতিরাই দায়ী। তাদের ভণ্ডামির কারণে সত্য, সঠিক এবং নির্ভেজাল ইসলামের সারৎসার লোকেরা বুঝে উঠতে পারছে না। অপরদিকে নিজেদেরকে কোরআনপন্থী একটি ফেরকা হিসেবে সমাজে পরিচয় দিচ্ছে। ফলে লোকেরা ভাবছে কোরআন পন্থীদের মধ্যে এই বুঝি আরেকটি দল। এভাবে কুরআনপন্থী নামে যুগে-যুগে ভুলভাল ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন দলের উদ্ভব হয়েছে। মূলত এরা কোনো কুরআনপন্থী দল নয়; বরং কুরআনের নাম বিক্রি করে নিজেদের ধর্ম ব্যবসার বাজার সরগরম রাখার চক্রান্তকারী গোষ্ঠী। প্রকৃত কোরআনপন্থী দল কয়েকটি নয়, মাত্র একটি। বিভিন্ন দেশে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন মাজহাবের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও, একই আত্মা নিয়ে বসবাস করে। ইসলামের সেই প্রকৃত দলের আলোচনায় আমরা একটু পরে অবতীর্ণ হবো। ইনশাআল্লাহ!
    তো আপনি বলুন দাদা, বিদআত এবং কুসংস্কারের প্রতিবাদ করা কি অন্যায়? কুসংস্কারের মূলশুদ্ধ উপড়ে ফেলার সংগ্রাম কি খারাপ কাজ?
    : কখনো না
    : তাহলে আপনিই বলুন, "ওহাবী" বলে কোরআনপন্থী কোন পৃথক দল আছে? নাকি ইংরেজ ও বেদআতিরা মিলে কুরআনের প্রকৃত অনুসারীদের বিরুদ্ধে এ নামে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়েছে?
    আওহামের আগে মুশিরই বলে দিলো, অবশ্যই ভাই। এসব ওদের প্রোপাগাণ্ডা বৈ কিছুই নয়। মূলত ওহাবী বলে কোনো দলই ইসলামে নেই।
    ইহতিজাজ বললো, আওহাম দা, আপনি কি লক্ষ করেছেন -ইংরেজি এবং বেদাতিদের এ প্রোপাগান্ডার শিকার স্বয়ং "স্বশিক্ষিত দার্শনিক" খ্যাত আরজ আলী সাহেবও? অথচ তিনি নিজে দাবি করতেন, তিনি কুসংস্কারকে সামান্যতও প্রশ্রয়দাতা নন। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নাকি তিনি আজীবন আন্দোলন করেছেন। যেখানে তিনি নিজে একজন কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনকারী, সেখানে (উনার ন্যায় মিথ্যা কুসংস্কার নিয়ে আন্দোলনের জন্য নয়; বরং) বাস্তবিকার্থের কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনকারীদের আন্দোলন নিয়ে যখন কুসংস্কারপ্রেমীরা এবং জালিম ইংরেজরা প্রোপাগাণ্ডা চালায়, তখন তিনি এ প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধাচরণ না করে -সেটাকে মুখরোচক হিসেবে গ্রহণ করছেন। উনার আপত্তি উত্থাপনের হাতিয়ার হিসেবে সেটাকে স্বাগতম জানাচ্ছেন। কিন্তু কেনো? কোন বিবেকে তিনি এটা করলেন? কুসংস্কারকারীরা যখন কুসংস্কার বিরোধীদের "ওহাবী" বলে তাদের আন্দোলনকে ভিন্ন-প্রবাহে পরিচালিত করার প্রয়াসী হলো, তখন তিনি তাদের প্রোপাগাণ্ডার সুরে তাল মিলিয়ে সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর আঙ্গুল তুলে -কুসংস্কারকারী এবং ইংরেজদের কাজে কি সহযোগিতা করেননি? যিনি নিজে বিদআ'ত তথা কুসংস্কারের এবং জালিম শাসক ইংরেজের মদদকারী, সেই তিনি সংস্কারব্রতী এবং মানবতাবাদী হোন কী করে -বুঝতে পারি না!!

    তো আওহাম দা, ওহাবী মূলত কুরআনপন্থী পৃথক কোনো দলের নাম নয়। বরং কুরআনের প্রকৃত অনুসারীদের গালি দেওয়ার লক্ষ্যে কুসংস্কারি বিদাতিদের আবিষ্কার করা একটি "সভ্য গালি"

    House of Wisdom

    House of Wisdom

    House of Wisdom — Inspired by the legacy of Baghdad’s Bayt al-Hikmah, where ideas meet knowledge, culture, philosophy, and civilization through thoughtful exploration.

    Post a Comment